অফিস ডেস্ক
যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্তে উঠে এসেছে, নিহতের মেয়ের জামাই বাসেত আলী পরশের পরিকল্পনা ও তার সরবরাহ করা অস্ত্রেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। ভাড়াটে শুটার ত্রিদিপ চক্রবর্তী ওরফে মিশুকের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে এসব তথ্য প্রকাশ পায়।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গ্রেপ্তারকৃত শুটার ত্রিদিপ চক্রবর্তী মিশুককে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ডিবি সূত্র জানায়, আলমগীর হোসেনকে হত্যার জন্য ভাড়াটে শুটার হিসেবে মিশুককে ব্যবহার করা হয়। একটি চায়ের দোকান করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে সে হত্যামিশনে অংশ নেয়। আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে জামাই বাসেত আলী পরশের কাছ থেকে হত্যার কন্ট্রাক্ট নেয় অমি ও প্রিন্স নামে দুজন, যারা মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করে।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মো. আহসান হাবীব বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে মিশুক জানিয়েছে— সে ভাড়াটে শুটার হিসেবে আলমগীর হোসেনকে গুলি করে হত্যা করেছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র এবং ঘটনার সময় পরিহিত পোশাকও উদ্ধার করা হয়েছে। অমি ও প্রিন্সকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে শুটার মিশুককে শনাক্ত করে যশোর শহরের বেজপাড়া মন্দির সংলগ্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। মিশুক (৩০) যশোর শহরের বেজপাড়া চিরুনি কল এলাকার মিহির চক্রবর্তী ত্রিনাথের ছেলে।
উল্লেখ্য, শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন (৫৫)। তিনি শংকরপুর ইসহাক সড়ক এলাকার মৃত ইন্তাজ আলী চৌধুরীর ছেলে ছিলেন। ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল পরিকল্পনাকারীসহ জড়িতদের গ্রেপ্তারে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।