অফিস ডেস্ক
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে কারণ দর্শানোর শোকজ নোটিশ (শোকজ) দেওয়া এবং দল থেকে সাময়িক অব্যাহতির একটি খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও সেটিকে সম্পূর্ণ ভুয়া বলে দাবি করেছে দলটি। দলের উচ্চতর পরিষদের সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আবু হানিফ জানান, নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে শোকজ বা সাময়িক অব্যাহতির বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নোটিশটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি কুচক্রী মহল রাজনৈতিক সুবিধা নিতে পরিকল্পিতভাবে ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছে।
এদিকে শুক্রবার প্রকাশিত এক অডিও বার্তায় দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুনও বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন, তার স্বাক্ষর জাল করে একটি ভুয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তি ছড়ানো হয়েছে। তিনি জানান, ভাইরাল হওয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি সম্পূর্ণ বানানো এবং অন্য একটি নথি থেকে তার স্বাক্ষর কপি করে দলের প্যাডে বসানো হয়েছে। গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলেও তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন।
হাসান আল মামুন আরও বলেন, এই পরিকল্পিত গুজবের মাধ্যমে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চলছে। তিনি গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষকে যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস বা প্রচার না করার আহ্বান জানান।
দলীয় সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতা ইস্যুকে কেন্দ্র করে গণঅধিকার পরিষদের ভেতরে কিছুটা অসন্তোষ ও আলোচনা চললেও, সেই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে একটি তৃতীয় পক্ষ অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে নীতিনির্ধারকদের ধারণা। বিশেষ করে সভাপতির বিরুদ্ধে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে আসন সমঝোতার অভিযোগ এবং দপ্তর সম্পাদককে সাময়িক অব্যাহতির ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছিল, সেটিকেই কেন্দ্র করে এই গুজব ছড়ানো হয়েছে বলে মনে করছেন নেতারা।
আবু হানিফ বলেন, পটুয়াখালী-৩ আসনে নুরুল হক নুরের ‘ট্রাক’ প্রতীকের পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থন তৈরি হয়েছে। এতে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে ভুয়া নোটিশ ও তথ্য ছড়াচ্ছে। তিনি আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, এর আগেও নুরুল হক নুরকে দলীয় সভাপতি পদ থেকে বহিষ্কারের একটি ভুয়া নোটিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই নোটিশে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ তুলে তাকে সাময়িক বহিষ্কার ও স্থায়ী বহিষ্কারের কারণ জানতে চাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়, যা পরবর্তীতে দলটির পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ ভুয়া বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়।