অফিস ডেস্ক
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে টাঙ্গাইল ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে একজন নারীসহ আরও ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সক্রিয় সদস্যদের গ্রেপ্তারে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
র্যাব জানায়, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ লেনদেনের অভিযোগে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, নগদ টাকা, ব্ল্যাংক চেক, স্ট্যাম্প পেপার, প্রার্থীদের প্রবেশপত্র ও মূল সনদপত্র জব্দ করা হয়। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে র্যাব-১৪ সিপিসি-৩-এর কোম্পানি কমান্ডার কাওসার বাঁধন নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— সখীপুর উপজেলার কালমেঘা গ্রামের মৃত আমিনুল ইসলামের ছেলে বেল্লাল হোসেন (৩৩), একই উপজেলার নলশোধা গ্রামের মৃত কুব্বাত আলীর ছেলে জয়নাল আবেদীন (৫২), সদর উপজেলার আশেকপুর এলাকার মৃত রজব আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন (৫২), দেলদুয়ার উপজেলার কামার নওগাঁ গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদ মিয়ার ছেলে আল আমিন (২৮) এবং নাগরপুর উপজেলার চর লক্ষীপুর এলাকার অনন্ত ব্যানার্জীর ছেলে অপূর্ব ব্যানার্জী (৪৩)। তাদের মধ্যে জয়নাল আবেদীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিস সহকারী প্রশাসনিক (শিশু কল্যাণ) পদে কর্মরত বলে জানায় র্যাব।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ঢাকায় সেনাবাহিনীর অভিযানে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সদস্য মাহবুব গ্রেপ্তার হন। জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টাঙ্গাইলে অভিযান চালিয়ে প্রথমে বেল্লাল হোসেনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে অন্য চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের টাঙ্গাইল সদর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
অন্যদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের অভিযোগে এক নারী পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার পরীক্ষা চলাকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ২০৫ নম্বর কক্ষ থেকে দায়িত্বরত শিক্ষকদের সহায়তায় পুলিশ তাকে আটক করে। সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নূরে আলম জানান, আটক পরীক্ষার্থীর নাম রোকসানা খাতুন। তিনি সদর উপজেলার কালিনগরের আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে। তার কাছ থেকে ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে গাইবান্ধা জেলায় একই পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ৫১ জন পরীক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। সে সময় তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, এটিএম কার্ডসহ ৪৭টি অবৈধ ও বিশেষ ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্র নির্মূলে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।