শিরোনাম:

খালেদা জিয়া আধুনিক বাজারভিত্তিক অর্থনীতির অন্যতম রূপকার: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
অফিস ডেস্ক
প্রতিবেদন প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ | সময়ঃ ১২:৪৫
photo

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ভিত্তি নির্মাণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবদান ছিল যুগান্তকারী— এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, অবিচল নিষ্ঠা, দূরদর্শিতা ও সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনার মাধ্যমে খালেদা জিয়া কেবল গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের প্রতীকই নন, বরং দেশের আধুনিক বাজারভিত্তিক অর্থনীতির অন্যতম রূপকার হিসেবে ইতিহাসে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন। সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশসহ ব্যবসায়ীদের ১৭টি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

 

মির্জা ফখরুল বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে ব্যক্তিখাত ও প্রাইভেট সেক্টরনির্ভর উন্নয়নের অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন, বেগম খালেদা জিয়া তা গভীরভাবে ধারণ করেছিলেন। তিনি ধনী-দরিদ্রের বিভাজনে না গিয়ে সকল শ্রেণির মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের পথে অগ্রসর হয়েছেন। প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে ঐক্য, সহনশীলতা ও ভালোবাসার ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গঠনের যে বার্তা তিনি দিয়েছেন, তা আজও প্রাসঙ্গিক বলে মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব।

 

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কারাবরণ, নির্যাতন ও চাপের মধ্যেও তিনি কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। রাজনৈতিক দলের নেত্রী হওয়ার পাশাপাশি তিনি একাধারে ছিলেন গোটা জাতির নেত্রী— এমন নজির বিরল। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি কবি আল মাহমুদের লেখা ‘তোমার মুখের দিকে চেয়ে আছে বাংলার ভোরের আকাশ’ কবিতাটি আবৃত্তি করে শোনান।

 

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া প্রাইভেট ও পাবলিক সেক্টরের মধ্যে একটি ‘ইউনিক কম্বিনেশন’ সৃষ্টি করেছিলেন। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকার সময় তিনি খালেদা জিয়ার কাছ থেকে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের আধুনিক দিকনির্দেশনা পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, আপসহীন ও নীতিনিষ্ঠ রাজনীতির যে ধারা তিনি রেখে গেছেন, তা বিএনপির আদর্শিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করেছে।

 

বিএনপির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গণতন্ত্রের পাশাপাশি অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতেও বেগম খালেদা জিয়ার অবদান ছিল সুদূরপ্রসারী। মাল্টিসেক্টরভিত্তিক বৈদেশিক নীতির মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দৃশ্যমান করেছেন। মৃত্যুর ৮-৯ বছর আগে ঘোষিত ভিশন-২০৩০ এবং পরবর্তীতে তারেক রহমানের সঙ্গে প্রণীত ৩১ দফার মাধ্যমে ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠনের যে রূপরেখা তিনি দিয়ে গেছেন, তা ছিল সময়ের অনেক আগের চিন্তাভাবনা।

 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে আইসিসি-বি সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব জাতীয় ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। নব্বইয়ের দশক ও দুই হাজারের শুরুর দিকে তার নেতৃত্বে স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক উন্নয়ন দারিদ্র্য হ্রাসে সহায়ক হয়েছিল।

 

ব্যবসায়ী নেতারাও খালেদা জিয়ার অবদান তুলে ধরেন। ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, মুক্ত বাজার অর্থনীতি, বেসরকারি খাতনির্ভর উন্নয়ন এবং উদ্যোক্তাবান্ধব নীতির মাধ্যমে তিনি রাজস্ব ব্যবস্থা, আর্থিক খাত ও পুঁজিবাজারকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করান। বিজিএমইএ’র জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, আজকের বিশাল তৈরি পোশাক শিল্পের পেছনে খালেদা জিয়ার সরকারের শিল্পবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া বিসিআই, বিকেএমইএ ও ওষুধ শিল্প সমিতির নেতারাও তার সাহসী নীতি সিদ্ধান্ত ও দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।

 

অনুষ্ঠান শেষে বক্তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে না থাকলেও তার রাজনৈতিক আদর্শ, অর্থনৈতিক দর্শন ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায় বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর ন্যস্ত হয়ে থাকবে।

শেয়ার করুন