অফিস ডেস্ক
প্রতিবেদন প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, সময়ঃ ১২:৪৯
দক্ষিণ কোরিয়ার চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম কিংবদন্তি অভিনেতা আন সুং কি আর নেই। সোমবার (৫ জানুয়ারি) তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলে সন্তান রেখে গেছেন।
এপি’র বরাতে ভ্যারাইটি এক প্রতিবেদনে জানায়, দীর্ঘ ছয় দশকের অভিনয় জীবনে আন সুং কি ১৩০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে ‘সিলমিডো’ ও ‘রেডিও স্টার’-এর মতো ঐতিহাসিক সুপারহিট সিনেমা রয়েছে, যা কোরিয়ান চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।
প্রখ্যাত এই অভিনেতার মৃত্যুর খবর তার সংস্থা আর্টিস্ট কোম্পানি এবং সিউলের সনচুনহ্যাং বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, তিনি রক্তের ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
আন সুং কির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি লেখেন, আন সুং কি অসংখ্য মানুষের জীবনে আনন্দ, স্বস্তি ও ভাবনার সময় উপহার দিয়েছেন। তার উষ্ণ হাসি ও কোমল কণ্ঠ ইতোমধ্যেই গভীরভাবে অনুভূত হচ্ছে।
মাত্র পাঁচ বছর বয়সে শিশুশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে আন সুং কির। ১৯৫৭ সালে ‘দ্য টোয়াইলাইট ট্রেন’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু করেন তিনি। শৈশবে প্রায় ৭০টির মতো সিনেমায় অভিনয় করলেও কিশোর বয়সে অভিনয় থেকে সরে যান। পরবর্তীতে হানকুক ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্টাডিজ থেকে ভিয়েতনামিজ ভাষায় পড়াশোনা সম্পন্ন করে সর্বোচ্চ সম্মাননা অর্জন করেন।
১৯৭৭ সালে তিনি আবার অভিনয়ে ফিরে আসেন এবং লি জ্যাং-হোর ‘গুড উইন্ডি ডেজ’ (১৯৮০) সিনেমায় দুর্দান্ত অভিনয়ের মাধ্যমে সেরা নতুন অভিনেতা হিসেবে গ্র্যান্ড বেল পুরস্কার লাভ করেন। এরপর আধুনিক কোরিয়ান চলচ্চিত্রে ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে নিজেকে অন্যতম প্রধান অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। তার সংযম, ব্যক্তিত্ব, কর্তৃত্বপূর্ণ উপস্থিতি ও মানসিক গভীরতা তাকে আলাদা মাত্রা দেয়।
তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘মান্দারা’, ‘হোয়েল হান্টিং’, ‘হোয়াইট ব্যাজ’, ‘টু কপস’, ‘সিলমিডো’ এবং সংগীত-নির্ভর নাট্যধর্মী ছবি ‘রেডিও স্টার’। অসাধারণ অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পাঁচবার গ্র্যান্ড বেল পুরস্কার অর্জন করেন।
পর্দার বাইরে আন সুং কি কোরিয়ান চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি কোরিয়ান চলচ্চিত্র অভিনেতা সংগঠনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং শিল্পের পরিবর্তনশীল সময়ে অভিনয়শিল্পীদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
আন সুং কির মৃত্যুতে দক্ষিণ কোরিয়ার চলচ্চিত্র অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক। একজন অভিনেতা হিসেবে নয়, বরং শিল্পের অভিভাবক ও অনুপ্রেরণার প্রতীক হিসেবেই তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
© sangbad52 ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ